ঢাকা অফিস : বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত নারায়ণগঞ্জের বাইতুস সালাত জামে মসজিদে শনিবার সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। শুক্রবার রাতে এশার নামাজের পর মসজিদটিতে আধা ডজন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু ঘটে।
বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত নারায়ণগঞ্জের বাইতুস সালাত জামে মসজিদে শনিবার সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। শুক্রবার রাতে এশার নামাজের পর মসজিদটিতে আধা ডজন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু ঘটে।
নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লায় মসজিদের এসি বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে; মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে মোট ২৪ জন।
ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যে ১৩ জন ভর্তি আছেন, তাদের অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন বলে ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের বাইতুস সালাত জামে মসজিদ থেকে দগ্ধ অবস্থায় যে ৩৭ জনকে বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়েছিলে, তাদের মধ্যে ২১ জনের মৃত্যু হয় শনিবার রাত ১১টা পর্যন্ত।
এরপর শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুরের মধ্যে মারা যান জুলহাস উদ্দিন (৩০), শামীম হাসান (৪৫) ও মোহাম্মদ আলী মাস্টার (৫৫) । তাদের নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৪ জন হয়।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি আসলাম হোসেন জানান, রাতে যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে শামীম হোসেন ছিলেন ওই মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ। বাইতুস সালাত জামে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনও এর আগে মারা গেছেন।
ওসি আসলাম হোসেন জানান, যে ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ২০ জনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের দাফনও করা হয়েছে।
বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত নারায়ণগঞ্জের বাইতুস সালাত জামে মসজিদে শনিবার সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। শুক্রবার রাতে এশার নামাজের পর মসজিদটিতে আধা ডজন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু ঘটে।বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত নারায়ণগঞ্জের বাইতুস সালাত জামে মসজিদে শনিবার সকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। শুক্রবার রাতে এশার নামাজের পর মসজিদটিতে আধা ডজন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু ঘটে।নারায়ণগঞ্জ শহরের পশ্চিম তল্লা এলাকার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে এশার নামাজের সময় ছয়টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে একসঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
সে সময় মসজিদে থাকা অর্ধশতাধিক মানুষের সবাই কমবেশি দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে ৩৭ জনকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
ইনস্টিটিউটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, “যারা ভর্তি আছেন, তারা কেউ শঙ্কামুক্ত নন। তাদের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ বলা যায়।”
নারায়ণগঞ্জের ডিসি জসিম উদ্দিন শনিবার সকালে বার্ন ইনস্টিটিউটে যান। তিনি মৃতদের পরিবারকে ২০ হাজার এবং আহতদের ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
ফায়ার সার্ভিস বলছে, ওই মসজিদের নিচ দিয়ে তিতাসের যে গ্যাসের পাইপ গেছে, সেখানে লিকেজ থেকে গ্যাস জমে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছে।
ফায়ার ব্রিগেডের উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধন বলেন, “এসিতে ব্যবহৃত ফ্রেয়ন গ্যাসের অস্তিত্ব আমরা মসজিদের ভেতরে বাতাসে পেয়েছি। এর পেছনে অন্য কোনো ঘটনা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
এ ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিস, তিতাস গ্যাস ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণে দগ্ধদের মধ্যে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
প্রাণ গেছে যাদের
>> চাঁদপুর সদরের করিম মিজির ছেলে মোস্তফা কামাল (৩৪)
>> ফতুল্লার নিউখানপুর ব্যাংক কলোনির আনোয়ার হোসেনের ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী রিফাত (১৮)
>> চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ উপজেলার শেখদী গ্রামের মৃত মহসিনের ছেলে মাইনুউদ্দিন (১২)
>> নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার সেকান্দর মিয়ার ছেলে মো. রাসেল (৩৪)
>> লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী থানার পলাশী গ্রামের মেহের আলীর ছেলে নয়ন (২৭)
>> নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার আব্দুল খালেকের ছেলে বাহার উদ্দিন (৫৫)
>> শরীয়তপুরের নড়িয়ায় কালিয়াপ্রাসাদ গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে জুবায়ের (১৮)
>> শরীয়তপুরের নড়িয়ায় কালিয়াপ্রাসাদ গ্রামের নুর উদ্দিনের ছেলে সাব্বির (২১)
>> নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার তল্লার আনোয়ার হোসেনের ছেলে জয়নাল (৫০)
>> মুন্সীগঞ্জের লৌহজং হাটবুকদিয়া গ্রামের জইন উদ্দিন বেপারীর ছেলে কুদ্দুস বেপারী (৭০)
>> পটুয়াখালী রাঙ্গাবালীর বাহেরচরের বাচ্চু ফরাজীর ছেলে জুলহাস উদ্দিন (৩০)
>> জুলহাস উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৭)
>> মসজিদের মুয়াজ্জিন কুমিল্লা লাঙ্গলকোটের বদরপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন (৪৮)
>> মুয়াজ্জিন দেলোয়ারের ছেলে জুনায়েদ (১৭)
>> মসজিদের ইমাম কুমিল্লার মুরাদনগরের পুটিয়াজুড়ি গ্রামের আব্দুল মালেক (৬০)
>> খুলনার খানজাহান আলী থানার মীরের জঙ্গা গ্রামের কাদের হাওলাদারের ছেলে কাঞ্চন হাওলাদার (৫৩)
>> পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী কাউখালী গ্রামের বেলায়েত বারীর ছেলে জামাল আবেদিন (৪০)
>> পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর সেনের হাওলার সাজাহান পেদার ছেলে নিজাম (৪০)
>> নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মজিদের ছেলে নাদিম (৪৫),
>> নারায়ণগঞ্জের তল্লা এলাকার কফিল উদ্দিন শেখের ছেলে হুমায়ুন কবির (৭০)
>> পটুয়াখালী সদরের দড়িতালুক গ্রামের আব্দুল হক বিশ্বাসের ছেলে মোহাম্মদ ইব্রাহিম বিশ্বাস (৪৩)
>> পটুয়াখালীর গলাচিপা খালেক হাওলাদারের ছেলে মোহাম্মদ রাশেদ (৩০)
>> মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষ চাঁদপুরের মতলব থানার সুজাপুর গ্রামের শামীম হাসান (৪৫)
>> নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা মকবুলের ছেলে মোহাম্মদ আলী মাস্টার (৫৫)
শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন যারা-
ময়মনসিংহের ত্রিশালের আব্দুর রহমানের ছেলে ফরিদ (৫৫), কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া থানার চর আলগী গ্রামের এমদাদুল হকের ছেলে শেখ ফরিদ (২১), বরিশালের বাকেরগঞ্জের বারঘড়িয়া গ্রামের সোবাহান ফরাজীর ছেলে মনির ফরাজী (৩০), আবুল বাশার মোল্লা (৫১), পটুয়াখালীর চুন্নু মিয়ার ছেলে মোহাম্মদ কেনান (২৪), পটুয়াখালী মোহাম্মদ রাজ্জাকের ছেলে নজরুল ইসলাম (৫০), নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার পশ্চিম তল্লার মো. স্বপনের ছেলে সিফাত (১৮), নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা আফজালের ছেলে হান্নান (৫০), একই এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে আব্দুস সাত্তার (৪০), নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসিরহাট গ্রামের আবদুল আহাদের ছেলে আমজাদ (৩৭), পটুয়াখালীর ধুমকির চর বয়রা গ্রামের লতিফ হাওলাদারের ছেলে মামুন (২৩), শরীয়তপুরের নড়িয়ার আলাল শেখের ছেলে ইমরান (৩০), শরীয়তপুরের নড়িয়া কেদারপুর গ্রামের মনু মিয়ার ছেলে আব্দুল আজিজ (৪০)।