1. raselahamed29@gmail.com : admin :
  2. riajul.kst@gmail.com : riajul.kst :
শুক্রবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২২, ০২:৩০ পূর্বাহ্ন

লালমনিরহাটে সমবায় সমিতির অর্থ লোপাট, আদালতে মামলা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১
  • ৩০২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

এস আর শরিফুল ইসলাম রতন, লালমনিরহাটঃ লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন বাজারস্থ মহিষখোচা প্রজাপতি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি: এর সভাপতি, সহ:সভাপতি, সম্পাদক ও ক্যাশিয়ার এর বিরুদ্ধে সমিতির সদস্যের সঞ্চয় এর, ত্রিশ লক্ষ টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে। আদালতে মামলা দায়ের করেছেন অভিযুক্ত এক সদস্য।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মহিষখোচা প্রজাপতি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি: গত ১২-৩-২০১২ইং তারিখে প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানে লেখা আছে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত। যার রেজি নং:৫৮। উক্ত সমিতির বর্তমান সদস্য সংখা প্রায় পাচ হাজার দুইশত। তৎকালীন ২২-০৬-২০২০ইং পর্যন্ত তাদের মাঠ পর্যায়ের বিতরণকৃত লোনের পরিমান ছিল প্রায় কোটি টাকার সমান হলেও এই প্রতিষ্ঠানের মোট মূলধনের পরিমান ছিল প্রায় তের কোটি টাকা জানা গেছে অনুসন্ধানে। এ টাকা পুরোটাই সমিতির সদস্যদের কাছ থেকে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক হারে গ্রহনকৃত।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায, সমিতির সদস্য মোট ১১জন সদস্যের অভিযোগে দেখা যায় তারা দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক হারে টাকা জমা রাখত। তাদের সকলের জমাকৃত টাকার পরিমান ছিল চার লাখ পয়ত্রিশ হাজার চারশত ত্রিশ।
অভিযোগকারী এগার সদস্যদের পক্ষে মোছা: শাপলা বেগম বলেন, আমি মাসিক পাচশত টাকা জমা রাখতাম। আমার কোড নম্বর:২২৬৬। এমনি ভাবে মোট এগার সদস্যের জমাকৃত টাকার পরিমান দাড়িয়েছে প্রায় ৪,৩৫,৪৩০ (চার লাখ পয়ত্রিশ হাজার চারশত ত্রিশ) টাকা।
বিভিন্ন সময় যখন অভিযোগকারী সভাপতি-সম্পাদক-সহ: সভাপতি-ক্যাশিয়ার এর কাছে তাদের জমাকৃত টাকা ফেরত চায়, সে সময় দ্বায়িত্বশীল চার ব্যক্তিবর্গ টাকা ফেরত না দিয়ে একে অপরের উপর দোষারোপ করতে থাকেন মর্মে অভিযোগে প্রকাশ রয়েছে।
অপরদিক ভুক্তভোগীদের মুখে শোনা যায়, তারা নিতান্তই খেটে খাওয়া অসহায় গরীব মানুষ। তারা কেউ ডিম বিক্রি করে এবং মুদি দোকান করে তাদের কষ্টার্জিত টাকা ভবিষ্যতে মুনাফা লাভের আশায় দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক হারে সঞ্চয় জমা রেখেছিলেন। এই টাকা সমিতির সভাপতি, সহ:সভাপতি, সম্পাদক, ক্যাশিয়ার সহ যারা দ্বায়িত্বে ছিলেন তারা কৌশলে তাদের টাকা আত্মসাত করবার অপচেষ্টায় ব্যস্ত আছে মর্মে অভিযোগে আরো উল্লেখ করেছেন। তাদের ভাষ্য আমরা গরীব মানুষ আমাদের টাকা ফেরত দেবার ব্যবস্থা করে দেন।
অর্থ আত্মসাত এর ব্যাপারে সমিতির সভাপতি মো: জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমি সভাপতি ছিলাম ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত। তাও আবার নামে মাত্র। সমিতিতে কে কখন কাকে কিভাবে টাকা পয়সা লোন দিয়েছেন আমি কিছুই জানিনা। কিভাবে সঞ্চয় তারা আদায় করেছেন তাও জানিনা। তবে এতটুকু বলতে পারবো আমার দায়িত্ব থাকাকালীন অবস্থায় সমিতির চার বারে লাভ হয়েছিল তিন লাখ সায়ত্রিশ হাজার টাকা। তাছাড়া আমি নিজেও এ সমিতির সদস্য ছিলাম। আমার নিজ নামীয় সাপ্তাহিক জমার পরিমান ছিল প্রায় ৭২০০০টাকা। তাছাড়া সভাপতি আরো বলেন যে, আমার অনুপস্থিতিতে কাশিয়ার-সম্পাদক-সহ:সভাপতি নামে বেনামে প্রায় চার লাখ টাকা সরিযে নেয়। কোন কোন ক্ষেত্রে ১০লাখ টাকার সঞ্চয় ৫ লাখ টাকায় পরিশোধ করেছে।
ইউএনও মহোদ্বয় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিলে তিনি সবাইকে মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদে ডেকে মিটিং এর মাধ্যমে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের উপস্থিতিতে সদস্যদের টাকা দু-তৃতীয়াংশ ফিরত দানের ব্যবস্থা করেন। (১৫-০২-২১ইং এবং ১২-০৩-২০২১ইং) দুই তারিখে চুয়াল্লিশ লাখ একানব্বই হাজার তিন শত পচানব্বই টাকা পরিশোধ করলেও অনেক সদস্য বাকি থেকে যায়।
মহিষখোচা প্রজাপতি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লি: এর ক্যাশিয়ার আ: সালাম কে ফোন করলে তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৮ লাখ টাকা লোন করে আমি সমিতির ১৪ লাখ টাকা জড়িমানা দিয়েছি । ইউনিয়ন পরিষদের সকলেই স্বাক্ষী আছেন। বাকী সদস্যের টাকা যারা পায়নি সে ব্যাপারে কি করবেন? যারা বিচারের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তাদেরকে বলেন।
টাকা ফিরত না পাওয়ার ব্যাপারে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বলেন, মহিষখোচা প্রজাপতি বাবসায়ী সমবায় সমিতি লি: এ সকল কার্যত্রম বন্ধ এবং তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। সদস্যদের টাকা স্থানীয় মেম্বারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গের দারা পরিষোধ করবার অনুরোধ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ঘোড়াঘুড়ির এক পর্যায়ে টাকা ফেরত না পাওয়ার কারণে অত্র প্রতিষ্ঠিানের সদস্য মহুবর রহমান, সদস্য কোড নং : ৬৫১ বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট, আমলী আদালত-২ এ ৪২০/৪০৬/১০৯ ধারায় মামলা দ্বায়ের করেন। মামলা নং সিআর ১১৬/২০২১(এ) তারিখ: ২৩-০৬-২১ইং মহুবর রহমান বনাম জাহিদুল ইসলাম। আদালত ফৌজদারী কার্যবিধির ২০০ ধারা মতে,অভিযোগকারীর হলফ পাঠঅন্তে জবানবন্দি গ্রহণ করে ১৬-৮-২০২১ইং তারিখের মধ্যে সমস্ত কাগজপত্র পিআরবি- ২৬১ প্রবিধান মতে ওসি আদিতমারী কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
আর আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ভুক্তভোগীরা অপেক্ষায় আছেন, কখন তাদের তিল তিল করে জমানো টাকা ফেরত পাবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর ....

All rights reserved © 2020 tajasangbad.com
Design & Developed BY Anamul Rasel
x