1. riajul.kst1@gmail.com : riajul :
  2. riajul.kst@gmail.com : riajul.kst@gmail.com :
মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ায় সরিষা ক্ষেতে মধু চাষ

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ১৫০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

আরাফাত, কুষ্টিয়া : সে এক অপরূপ দৃশ্য। চোখ মেললেই মন জুড়িয়ে যায়। পুরো মাঠ যেন ঢেকে আছে হলুদ গালিচায়। সরিষার রূপ আর গন্ধে মাতোয়ারা চারিধার। আর তারই বুক জুড়ে মৌমাছি, প্রজাপতির অবিরাম খেলা। এর মধ্যেই সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ক্ষেতের পাশে পোষা মৌমাছির শত শত বাক্স নিয়ে হাজির হয়েছেন মৌয়ালরা। মৌমাছিরা সরিষার ফুলে ফুলে ঘুরে ঘুরে তুলে নেয় মধু, আর সেই মধু সংগ্রহ করতেই যেন মৌয়ালরা উৎসবে মেতেছেন।
প্রকৃতি হলুদের দোয়ার উন্মুক্ত করে দিয়েছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মাঠ। ক্ষেতের পর ক্ষেত সরিষা আর সরিষা। সরিষা ফুলের অপূর্ব হলুদ সবার চোখ জুড়ানোর দৃশ্য পথচারীদের দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছে। দৃষ্টির সীমানা দূরের সরষে ফুলের হলুদ রঙের অপরূপ রূপে সেজেছে।
মিরপুর এলাকার মৌমাছি মামুন বলেন, সরিষা ক্ষেতে মধু চাষ খুবই লাভজনক। এতে কৃষক ও মধু চাষি— দু’পক্ষই লাভবান হন। ফুলে ফুলে ঘুরে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে মৌমাছির ব্যাপক পরাগায়নে সরিষার বাড়তি ফলন পান কৃষক, আর মৌচাষিরা পান মধু।
মৌচাষিরা সাধারণত পছন্দের একটি সরিষা ক্ষেতের পাশে খোলা জায়গায় চাক ভরা বাক্স ফেলে রাখেন। একেকটি বাক্সে ৮-১০টি মোম দিয়ে তৈরি মৌচাকের ফ্রেম রাখা হয়।
প্রতিটি মৌ বাক্সের ভেতরে রাখা হয় রানি মৌমাছি। ফুল থেকে মৌমাছিরা মধু এনে বাক্সের ভেতরের চাকে জমা করে। বাক্সে একটি রানি মৌমাছি রাখা হয়। রানি মৌমাছির কারণে ওই বাক্সে মৌমাছিরা আসতে থাকে। চাকের বাক্সের মাঝখানের নিচে ছিদ্র করে রাখা হয়। সে পথ দিয়ে মৌমাছিরা আসা-যাওয়া করতে থাকে।
মৌচাষিরা জানান, বাক্সের ভেতরের চাকগুলো মধুতে পরিপূর্ণ হতে সময় লাগে ছয় থেকে সাত দিন। এরপর মধু চাষিরা বাক্স খুলে চাকের ফ্রেম থেকে মেশিনের মাধ্যমে মধু বের করে নেন।
এদিকে, সরিষা চাষিরা বলছেন, সরিষা ক্ষেতগুলো সাধারণত দেড় মাসের মতো ফুলে ফুলে ভরে থাকে। যতদিন ফুল থাকে, ততদিনই চলে মধু সংগ্রহ।
সরিষা ক্ষেতে বাক্সবন্দী মৌচাক এর মাধ্যমে তুলে আনা হচ্ছে মানসম্মত মধু। এতে লাভবান হচ্ছেন এই অঞ্চলের কৃষক আর অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন মৌচাষিরা। মাঠে এখন হলুদ ফুল ভরে গেছে। এইসব মাঠে চলছে ঝাকে ঝাকে মৌমাছির আনাগোনা। এই সময়টা মৌমাছিরাও যেন ফুসফুস নেই এতটুকু। ওরা ফুলে ফুলে বসে মধু সঞ্চয় করেই চলেছে।

মিরপুর কৃষি উপজেলা কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ঘোষ জানান গত কয়েক বছর ধরে এ অঞ্চলে সরিষা চাষ বেড়েছে। এবছর এই উপজেলায় ১৫১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। আরে থেকে উদপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ হাজার টন। আবওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আশাবাদী তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর ....

All rights reserved © 2020 tajasangbad.com
Design & Developed BY Anamul Rasel
x