1. riajul.kst1@gmail.com : riajul :
  2. riajul.kst@gmail.com : riajul.kst@gmail.com :
সোমবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

কুষ্টিয়ায় থামছেই না তামাকের আগ্রাসন: পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২২
  • ৩২৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া : মাটি, পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর তামাকের চাষাবাদ। তামাক চাষ নিরুৎসাহিতকরণে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন নীতিমালা নেই। এমনকি নীতামালা তৈরিরও কোন উদ্যোগ নেই।
বিচ্ছিন্নভাবে তামাক চাষে ঋণ প্রদান বন্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন, ভর্তুকি মূল্যের সার ব্যবহার বন্ধে কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কিছু ক্ষুদ্র প্রয়াসেই সীমাবদ্ধ তামাক চাষ নিরুৎসাহিতকরণ কার্যক্রম। কিন্তু দুর্বল তদারকি এবং বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলোর ‘অদৃশ্য’ হস্তক্ষেপের কারণে এসব প্রচেষ্টা থেকে কোনো সুফল আসছে না। এতে প্রতিদিনই তামাক চাষ বেড়ে খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি সৃষ্টি করছে।

প্রতিবছর বেড়ে যাচ্ছে তামাক চাষের বিস্তার। স্থানীয় ট্যোবাকো কোম্পানি সমূহের লোভনীয় ফাঁদে পড়ে চাষিরা পরিবেশ বিধ্বংসী এ চাষে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। বোরো মৌসুমের সবুজের ধানক্ষেত উচ্চ ফলনশীল তামাকের দখলে। এবারও কুষ্টিয়ার মিরপুর, দৌলতপুর অন্তত বেশকিছু ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জমিতে পরিবেশ বিধ্বংসী তামাকের ভয়াবহ আগ্রাসন ঘটেছে।

ফসলি জমির পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সংরক্ষিত খাসজমি তামাক চাষ হয়েছে। কয়েক বছর ধরে তামাক চাষের বিরুদ্ধে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ের চাষিদের নিরুৎসাহিত করতে সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রম পরিচালনা এবং সরকারি প্রণোদনা দিয়েও কোন কাজে আসেনি।

সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৪ সাল থেকে বৃটিশ আমেরিকা ট্যোবাকো, জাপান ট্যোবাকো, আকিজ ট্যোবাকো, ঢাকা ট্যোবাকো, আবুল খায়ের ও আলফা ট্যোবাকোসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি দীর্ঘদিন যাবৎ অত্র জনপদে তামাক চাষ ও বিস্তারে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করছে।

এসব কোম্পানি চাষিদের তামাক পোড়ানোর সরঞ্জাম সরবরাহ এবং দাদন হিসেবে অগ্রিম টাকা দেওয়ার প্রলোভনে ফেলে পরিবেশ বিধ্বংসী তামাক চাষে নামিয়েছে। কৃষি জমিতে তামাক আবাদের ফলে চলতি মৌসুমে বোরোর আবাদ ও রবিশস্য উৎপাদনে ব্যাপক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তামাক চাষের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন জোরদারে নিয়োজিত স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, প্রতিবছর মিরপুর ও দৌলতপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ জমিতে পরিবেশ বিধ্বংসী তামাক চাষ বেড়ে চলছে। ফসলি জমিতে তামাক চাষের কারণে আবাদি জমির পরিমাণ কমতে থাকায় এখন চরম হুমকির মুখে পড়েছে কৃষি উৎপাদন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে খাদ্য উদ্বৃত্ত প্রতিটি জনপদে একসময় চরম খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দেবে। এ জন্য তামাক চাষ বন্ধে প্রশাসনকে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে মিরপুর ও দৌলতপুর উপজেলার বেশকিছু ইউনিয়নে ফসলি জমির পাশাপাশি তামাক চাষ হয়েছে।

নাগরিক সচেতনায় প্রশাসনিক এত আয়োজনের পরও উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ফসলি জমির পাশাপাশি তামাকের আগ্রাসনের কারণে এলাকার অনেক গাছগাছালি ইতিমধ্যে উজাড় হয়ে গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বলেন ‘তামাক চাষ কোনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। চাষিরা বেশিভাগ গরীব। তামাক কোম্পানির দাদনদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে কৃষকরা, এতে তারা তামাক চাষ করে লাভবানও হচ্ছে না। কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে উপজেলা প্রশাসন, এনজিও, পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষ থেকে তামাক চাষের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন আরও জোরদার করা উচিত বলে মনে করি।

কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘তামাক চাষের কুফল সম্পর্কে ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় মাঠ বৈঠকের কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। এতে এই বছর অন্য বছরের তুলনায় অনেক জমিতে তামাক চাষ হয়নি। তারা এসব জমিতে সবজি, সরিষা ও ফুল চাষ করেছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে তামাক চাষ বন্ধে এই পর্যন্ত কোন ধরণের দিক-নির্দেশনা নেই। এর পরেও তামাকের ভয়াবহতা অনুভব করে আমরা চেষ্টা করেছি নানা কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে তামাক চাষিদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে। এক্ষেত্রে তামাক চাষিদেরই বেশি সচেতন হতে হবে। মুলত চাষিরা সচেতন হলে বিকল্প চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়বে। অন্যথায় আবাদি জমি কমে গেলে ফসল উৎপাদন তথা নিরাপদ খাদ্য ভান্ডার নিশ্চিতে বড় ধরণের বিপর্যয় দেখা দেবে।

স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহল মনে করছেন, জরুরি ভিত্তিতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন জায়গায় রোপিত তামাক ধ্বংস না করলে পরিবেশ বিপর্যয় ঠেকানো যাবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর ....

All rights reserved © 2020 tajasangbad.com
Design & Developed BY Anamul Rasel
x
error: Content is protected !!