1. riajul.kst1@gmail.com : riajul :
  2. riajul.kst@gmail.com : riajul.kst@gmail.com :
শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২, ১১:২৮ অপরাহ্ন

বেকায়দায় শিল্পীরা,লালন একাডেমীর জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৯ মার্চ, ২০২২
  • ১০৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

নাটোর প্রতিনিধি : ফকির লালনকে নিয়ে গবেষণা, সঙ্গীত চর্চা ও তার জীবনাদর্শকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে নাটোরে প্রতিষ্ঠা হয় লালন একাডেমী। সাবেক জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুনের উদ্যোগে সদর উপজেলার কাফুরিয়া ইউনিয়নের জালালাবাদ গ্রামে একাডেমীর কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে লালনের জন্ম-মৃত্যু বার্ষিকীতে অনুষ্ঠান আয়োজন ছাড়াও প্রতি সপ্তাহে একদিন করা হতো সঙ্গীতচর্চা। অনুষ্ঠানে জেলার বাইরে থেকেও আসতেন শিল্পীরা। তবে সম্প্রতি একাডেমীর জন্য দেওয়া জায়গা নিয়ে জমিদাতার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সমস্যা দেখা দেওয়ায় সংঘর্ষের আশঙ্কায় বন্ধ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে বেকায়দায় পড়েছেন শিল্পীরা। বন্ধ হয়েছে গবেষণা ও সঙ্গীত চর্চা।

জানা যায়, সাবেক জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন লালন একাডেমী পরিচালনা পর্ষদের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। জেলা প্রশাসনের সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো একাডেমী। এ জন্য উপজেলা পর্যায়েও কমিটি ছিল। একাডেমীতে যুক্ত হন শিল্পী ও সাধুরা।

লালন একাডেমীর কার্যকরি কমিটির সাবেক সভাপতি খোকা জানান, বর্তমানে জমি নিয়ে বিবদমান পক্ষ দুটি কাউকে মানতে চায় না। প্রায়ই তারা হট্টগোল করেন। এসব কারণে তিনিসহ লালনশিল্পীরা ওই একাডেমীতে যাওয়া বন্ধ করেছেন। এতে পুরনো শিল্পীদের সঙ্গীতচর্চা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি নতুন শিল্পী তৈরিও বন্ধ রয়েছে। যা সংস্কৃতি অঙ্গনের জন্য অপূরনীয় ক্ষতি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

একাডেমীর কার্যকরী কমিটির সাধারণ সম্পাদক নয়ন হালদার বলেন, এখন প্রতি সন্ধ্যায় ওই একাডেমীতে সঙ্গীত চর্চার বদলে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। এতে বেকায়দায় পড়েছেন শিল্পীরা।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, সঙ্গীত চর্চা বা কোনও অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নিলে জমি নিয়ে বিবদমান দুই পক্ষ এসে সমস্যার সৃষ্টি করে। দুই পক্ষের লোকজন ওই জমির মালিকানা দাবি করে কমিটির নেতৃত্ব চায়। এমন অবস্থায় সঙ্গীত শিল্পীরা বিবাদ-সংঘর্ষের আশঙ্কায় একাডেমীতে যাওয়া বন্ধ করেছেন। সমস্যার সমাধান একাডেমীর জন্য নিষ্কণ্টক জমির দাবি করেন তিনি।

জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলার বজরাপুর এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে কামরুল ইসলাম ওই জমির মালিক দাবি করে বলেন, জমিটি মূলত আমার নানা হযরত আলী সরকারের। আমার একমাত্র মামা শরিফ ছাড়াও মা ছুরাইয়া এবং খালা ছুফিয়া, ছইজান ও সামিয়া নানার সন্তান। নানা মারা যাওয়ার আগে কিছু জমি মামাকে রেজিস্ট্রি করে দেন। নানা মারা যাওয়ার পর মামা, মা ও খালাদের মধ্যে এজমালি সম্পত্তি স্থানীয় ও পারিবারিকভাবে আপস বণ্টন হয়। এতে বর্তমানে লালন একাডেমীর জায়গাটি মা পান। এরপর ওই জমিটি মা আমাকে রেজিস্ট্রি করে দেন। জমিটি খারিজ করে খাজনা দিয়ে ভোগদখলও করছিলাম।

তিনি আরও বলেন, মামা শরিফ নিজ নামের সমস্ত সম্পত্তি স্ত্রী ও ছেলেকে রেজিস্ট্রি করে দেন। এরপর আমার নামে রেজিস্ট্রি ও খারিজ হওয়া ওই ২৬ শতক জমি লালন একাডেমীকে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়। আমাকে করা হয় বেদখল। আমি ওই জমির দখল পেতে ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দফতরে আবেদন করেছি।

জানতে চাইলে লালন একাডেমীর জমিদাতা শরিফ দাবি করেন, আমার বাবা বেঁচে থাকতে আমাকে ১০-১২ বিঘা এবং আমার দুই ছেলেকে ১০ বিঘা জায়গা রেজিস্ট্রি করে দেন। বাবার মৃত্যুর পর এজমালি জমি পারিবারিক আপস মীমাংসায় মায়ের অংশ দেওয়া ছাড়াও সব বোনকে আট বিঘা জায়গা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে একাডেমীতে দেওয়া ২৬ শতক জমি আমার অংশে রয়েছে। সাবেক ডিসি শাহিনা খাতুনের আহ্বানে ওই জমি ২০০৯ সালে লালন একাডেমীর নামে ওয়াক্ফ করে দিয়েছিলাম। এরপর সেখানে কাজ শুরু হলে বোনেরা বাধা দেন। বিষয়টি জানতে পেরে ২০১৭ সালে ডিসি শাহিনা খাতুন তিন বোন এবং ভাগ্নে কামরুলের বাবা করিমকে ডেকে তাদের থেকে লিখিত নেন। তাতে তারা ওই জমির দাবি ত্যাগ করেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাবার জমি বণ্টন নামার জন্য আদালতে মামলা করেছি। মামলাটি চলমান আছে।

একাডেমীর জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক শানীম আহমেদ বলেন, কামরুল ইসলামের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করতে সদর ইউএনওকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর ....

All rights reserved © 2020 tajasangbad.com
Design & Developed BY Anamul Rasel
x