1. raselahamed29@gmail.com : admin :
  2. riajul.kst@gmail.com : riajul.kst :
বুধবার, ১৬ জুন ২০২১, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ার ইবি থেকে ছাত্র ইউনিয়ন নেতাকে বহিষ্কার

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০
  • ১৭৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

ইবি প্রতিনিধি :
করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় সরকারি পদক্ষেপ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার জেরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থেকে সাময়িক বহিষ্কার হয়েছেন শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জি কে সাদিক। সোমবার (১৫ জুন) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
জানা যায়, গত শনিবার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর আগে ও পরে ছাত্র ইউনিয়ন নেতা জি কে সাদিক ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট থেকে কয়েকটি স্ট্যাটাস দেন। এতে তিনি মোহাম্মদ নাসিম ও দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সমালোচনা করেন। এসব পোস্টের পর থেকেই তার শাস্তির দাবি তোলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান ও সাবেক নেতাকর্মীরা। এর প্রেক্ষিতেই তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ছাত্র ইউনিয়ন নেতা সাদিক তার এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে সরকারের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘স্বাস্থ্যব্যবস্থার এতো উন্নয়ন হলে সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে কেন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে? কেন সরকারী হাসপাতালে নয়?’ এছাড়া মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর পর তিনি এক তরুণী মায়ের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু নিয়ে লেখেন, ‘আমাকে বেশি ব্যথিত করে এই মৃত্যুগুলো। যারা সারা বছর রাষ্ট্রের কোষাগারে অর্থের জোগান দেয় কিন্তু মরে বিনা চিকিৎসায়। অন্যদিকে সেই কোষাগার লুট করা ব্যক্তিগুলো পায় সর্বোচ্চ চিকিৎসা।’ এ ছাড়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে গ্রেফতার করার প্রতিবাদে সরকারের সমালোচনা করা বেশ কিছু পোস্টও নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে শেয়ার করেন তিনি।

জি কে সাদিকের বহিষ্কারাদেশের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী তাজা সংবাদকে বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সংগঠন থেকে এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেয়েছি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি রক্ষার্থে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।’
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বহিষ্কারাদেশের সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিস্ট মনোভাবের প্রকাশ আখ্যা দিয়েছেন ছাত্র ইউনিয়নের ইবি সংসদের সাধারণ সম্পাদক জি কে সাদিক। তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনও অফিসিয়ালি আমাকে জানানো হয়নি। জানতে পারলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি নুরুন্নবী ইসলাম সবুজ তাজা সংবাদকে বলেন, ‘স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেরই সরকারের গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার আছে। সরকার আর রাষ্ট্র এক নয়। সচেতন নাগরিক হিসেবে যে কেউ সরকারের অসামঞ্জস্যের সমালোচনা করতেই পারেন। বাংলাদেশ ফৌজধারী কার্যবিধি অনুযায়ী, সন্দেহাতীত প্রমাণ না হলে কাউকে শাস্তি দেওয়ার অধিকার নেই। সুতরাং, জি কে সাদিক কোনও রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করেননি। আমরা অনতিবিলম্বে এ বহিষ্কারাদেশের প্রত্যাহার চাই।’
এদিকে ইবি সাধারণ সম্পাদককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিস্কার করার পরেই বিবৃতি দিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় সংসদ। সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল ও সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়ের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের বিভিন্ন কর্মকান্ডের যৌক্তিক সমালোচনা করলেই কন্ঠরোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করে ভয় ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’ জি কে সাদিকের বহিষ্কারাদেশ এরই ধারাবাহিকতা বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর ....

All rights reserved © 2020 tajasangbad.com
Design & Developed BY Anamul Rasel