1. raselahamed29@gmail.com : admin :
  2. riajul.kst@gmail.com : riajul.kst :
বুধবার, ২৮ জুলাই ২০২১, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়া হরিপুরবাসীর স্বপ্নের ব্রীজটিতে আজ অবৈধ ট্রলির চলাচল, নোংরা ও অবহিলিত

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল, ২০২১
  • ২১০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : বছর পাঁচ আগে হরিপুর গ্রামবাসীরা বর্ষাকালে নৌকায় নদী পার হতে গিয়ে একাধিকবার নৌকাডুবি ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেতুটি এলাকাবাসীর কাছে স্বপ্নের শেখ রাসেল সেতু রুপান্তির হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন নদী পার হয়ে এপারে কুষ্টিয়া শহরে পড়তে আসত। হরিপুর সেতুটি চালু হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অনেক বড় উপকার হয়েছে।
এই হরিপুর সেতু নির্মিত গড়াই নদীর ওপর কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতুটি ২০১৭ সালের ২৪ মার্চ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ৩০ বছরের স্বপ্নপূরণ হয়েছে এই সেতুটি যা হাটশ-হরিপুর ইউনিয়নের লাখো মানুষের মধ্যে আছে আনন্দের জোয়ার। নির্মিত হওয়ার পর হরিপুরবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সেতুটি অবশেষে চালু হয়। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ২৪ মার্চ সেতুটি উদ্বোধন করেন।
এই ইউনিয়নে প্রায় এক লাখ মানুষের বাস। ইউনিয়নের বেশির ভাগ মানুষ জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন কুষ্টিয়া শহরে যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুমে নৌকা আর গ্রীষ্মে ধু ধু বালুতে হেঁটে গড়াই নদী পার হওয়ার কষ্ট-বিড়ম্বনা হরিপুরবাসীর দীর্ঘদিনের। কয়েক যুগ ধরে এলাকার মানুষ গড়াই নদের ওপর সেতু নির্মাণের আন্দোলন করে আসছিল।

এলজিইডি সূত্র জানায়, এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ২০১৩ সালের ২২ ডিসেম্বর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার অ্যাসোসিয়েট এ সেতু নির্মাণের কার্যাদেশ পায়।
সেতুটির দৈর্ঘ্য ৬০৪ মিটার, প্রস্থ ৬ দশমিক ১ মিটার। এর কুষ্টিয়া অংশে ২০০ মিটার ও হরিপুর অংশে ১৯৬ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হয়। এটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৭৮ কোটি টাকা। এই সেতু পারাপার হতে কোনো টোল লাগে না।
সরেজমিনে দেখা যায় কুষ্টিয়া হরিপুর শেখ রাসেল সেতুতেটি রাতে ঠিকমত বাতি জ¦লেও বেশ কয়েকটি জ¦লতে দেখা যায় না।
এ সেতুর উপর রাতের অন্ধকারে পুলিশের চোখ ফাকি দিয়ে রেজিষ্ট্রিশন ও হেড লাইট বিহীন ট্রলি হরিপুর বালির ঘাট থেকে বালি উত্তোলন করে এ সেতু দিয়ে চলাচল করছে নিয়মিত এবং চলাচলের সময় অবৈধ ট্রলি এ সেতু দিয়ে বালি নিয়ে যাবার সময় সেতুটি ব্যাপক লড়াচড়া করে। তবে কেউ বলেন সেতুটিতে স্পিরিং থাকায় এটা এমন হয়। তবে সব সময় রাতে ট্রলিতে বালি ওভারলোড করে নিয়ে যাওয়ায় সেতুর কোন ক্ষতি হচ্ছে কি না সাধারণ জনগণের মনে প্রশ্ন জাগে।
আরও দেখা যায় শেখ হরিপুর সেতু’র রাস্তার দুই পাশে বালি, ধুলা ও নোংরা পড়ে আছে। নেই কোন নিয়মিত পরিষ্কার।
হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সম্পা মাহমুদ সাথে মোবাইল ফোন কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি ব্যস্ত থাকায় ফোনটি কেটে দেন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার সচিব কামাল উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি জানান সেতুটিকে তাদের কর্মী দিয়ে মাঝে মধ্যে পরিষ্কার করেন। তিনি আরও জানান বেশির ভাগ ট্রলিতে বালু টানার কারণে ব্রীজে নোংরা সৃষ্টি হয়। অবশ্য এটা জেলা পরিষদের মধ্যে পড়ে। তাদের দায়িত্বের ভিতর পরে না বলে তিনি জানান।
জেলা পরিষদের হাজী রবিউল ইসলাম তাজা সংবাদকে বলেন আসলে কাজের আন্ডারে তাদের নেই। বাতি লাগানোর কাজ ও রাস্তা পরিস্কারের কাজ পৌরসভার আমাদের না।
কুষ্টিয়া পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম তাজা সংবাদকে জানান আসলে এই কাজ পৌরসভার না। এটা এলজিইডিদের। এর আগে বাতি জ¦ালানোর জন্য আমাদের কাছে গাড়ী চেয়েছিল, তাদেরকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাস্তা পরিষ্কারের কথা বললে তারা জানান এটাও তাদের কাজ না।
কুষ্টিয়ার এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদুর রহমান মন্ডল তাজা সংবাদকে বলেন এ ব্রীজে প্রায় এক বছর ধরে লাইটের আলো বন্ধ ছিল, রাতের অন্ধকারে হত ছিনতাই। সেখানে আজ আমরা নতুন করে লাইট দিয়েছি। বিদ্যুৎ বিল প্রায় তিন বছরের পাওনা ছিল তা আমরা পরিশোধ করেছি ও প্রতিমাসে বিদ্যু বিল পরিশোধের ব্যবস্থা করেছি।
রাস্তার দুই পাশে নোংরা বিষয়ে তিনি জানান এটা পৌরসভার কাজ আমাদের কর্মী নেই। তারপরে মাঝে মধ্যে রাস্তায় পানি জমাট হলে আমাদের কর্মী দিয়ে পরিষ্কার করে দেই।
তিনি আরও বলেন ব্রীজের ধারণ ক্ষমতা ১৬ টন আর একে ব্যবহার করা হচ্ছে ৪০টন। অবৈধ ট্রলিতে প্রতি দিন বালি নেবার সময় রাস্তায় পড়ছে। যা জমাট বেঁধে যাচ্ছে। আগে ট্রলিগুলোকে বন্ধ না করা হয়ে এই ব্রীজের ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে হরিপুরবাসীর।
তবে এ বিষয়ে হরিপুর বাসীর দাবী রাস্তার দু’পাশে বালু পড়ে থাকে ঘটছে দুর্ঘটনা, হতে পারে প্রাণহানীর মত ঘটনা। এ বিষয়ে অবৈধ ট্রলিগুলোকে বন্ধের দাবী জানান এলাকাবাসী। তবে বিশেষ করে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন গ্রামবাসীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর ....

All rights reserved © 2020 tajasangbad.com
Design & Developed BY Anamul Rasel